নৃ-তাত্ত্বিক যে আবিষ্কারগুলো পাল্টে দিয়েছে ইতিহাস!

iron

বাংলা দর্পণ : মানুষ প্রতিনিয়তই ফেলে আসা অতীত আর অতীতকালের মানুষদেরকে নিয়ে নতুন নতুন বিষয় আবিষ্কার করছে। আর এই প্রতিটি আবিষ্কারই আমাদের চোখে পাল্টে দিচ্ছে চিরচেনা অতীতকে। ইতিহাসকেও নতুন করে সাজিয়ে তুলছে এই নিত্য-নতুন আবিষ্কারগুলো। চলুন, জেনে আসি এমনই কিছু সাম্প্রতিক আবিষ্কারকে যেগুলো পাল্টে দিয়েছে ইতিহাস।

১। আকাশের লোহা:
১৯২২ সালে সর্বকনিষ্ঠ ফারাও রাজা তুতেনখামেনের সমাধি আবিষ্কার করেন রিচার্ড কার্টার। সেখানে প্রচুর জিনিসপত্রের সাথে সাথে একটি ছুরিও পান তিনি। অদ্ভূত হলেও এত বছরের পুরোন ছুরিটিতে এতটুকু জং ধরেনি হাজার বছর পরেও। ছুরির এই অদ্ভূত দিকটি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেসময়। ছুরিটিকে পরীক্ষা করা হয় আর জানা যায় বিষ্ময়কর কিছু তথ্য। ছুরিটির উপাদানে যে ধাতু পাওয়া যায় তার উত্পত্তি পৃথিবীর বাইরে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। কোবাল্ট আর নিকেলের এমন মিশ্রণ কোথাওই পাওয়া যায়না। কেবল ছুরিটিই নয়, ২০১৩ সালে মিশরের অন্য কিছু লোহনির্মিত যন্ত্রপাতিতেও উল্কার ছাপ পাওয়া যায়। ফলে প্রাচীন নানা লেখনীতে প্রাচীন মানুষ- আকাশ থেকে পতিত লোহা নামক যে বিষয়টির উল্লেখ বারবার করেছিল, সেটাকে সত্যি বলে ধরে নেওয়া হয় এই আবিষ্কারের পরে।

২। প্রাচীন সভ্যতা:
সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়াসি দ্বীপে প্রাচীন এক সভ্যতার হদিস পাওয়া গিয়েছে। যেটি এখনো পর্যন্ত ছিল মানুষের দৃষ্টিসীমানার বাইরেই। নৃ-তাত্ত্বিকেরা এখন পর্যন্ত এই দ্বীপ থেকে প্রায় ১০০ টিরও বেশি পাথর নির্মিত যন্ত্র খুঁজে পেয়েছেন যেগুলোর প্রতিটির বয়স কম করে হলেও ১১৮,০০০ বছর। সবকিছু দেখে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, আজ থেকে প্রায় ৫০,০০০-৬০,০০০ বছর আগে দ্বীপটিতে পা রাখে মানুষ। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে সুলাওয়সি দ্বীপের নিকটবর্তী দ্বীপ ফ্লোরসের দ্বীপে নতুন এক সভ্যতা ফ্লোরসিনসিসকে খুঁজে পান বিশেষজ্ঞরা। যাকে আমরা হোবিট নামেই চিনি।

৩। মাদক তৈরির গাছ:
সাধারণত, ভাং বা মাদকদ্রব্য তৈরির বিশেষ এই গাছটি সর্বপ্রথম চাষ করে শুরু করা হয় চীনে। তাও আবার প্রায় ১০,০০০ বছর পূর্বে। কিন্তু সম্প্রতি জানা গিয়েছে যে, পূর্ব ইউরোপ বা জার্মানিতে ঠিক একই সময়ে বা তারচাইতেও বেশি আগে ক্যানাবিস বা ভাং গাছের চাষ করা শুরু হয়। ফ্রি ইউনিভার্সিটি অব বার্লিনে সম্প্রতি এই গবেষণাটি চালানো হয়। যদিও এতদিন পর্যন্ত বিষয়টিকে প্রাথমিক পর্যায়ে চীনের একক মালিকানাধীন বলে মনে করা হয়েছিল, সম্প্রতি কেবল ইউরোপেই নয়, বরং ইউরোএশিয়ার আরো কিছু দেশেও এর উল্লেখ পাওয়া যায়।

৪। নতুন প্রাণী:
এই বছরেই একেবারে অন্যরকম এক প্রাণীর উপস্থিতি পান গবেষকেরা। আর সেটাও প্রাচীনকালে গুহার ভেতরে আঁকা পশু-পাকীদের প্রতিকৃতি থেকে। লসকাক্স ও পার্গাওসেট নামক গুহা দুইটি থেকে বাইসনের কিছু চিত্র পান গবেষকেরা। তবে খেয়াল করেন যে প্রচীনকালে অঙ্কিত অন্যকিছু বাইসনের প্রতিকৃতির চাইতে এই বাইসনের প্রতিকৃতি অনেকটাই আলাদা। এক রকমের সন্দেহ হয় তাদের। এদের প্রথমটি ছিল ২০ হাজার বছর আগের। আর পরেরটি ৫ হাজার বছর পরের। পরবর্তীতে বাইসনের ডিএনএ নিয়ে গবেষণা করে শেষ অব্দি জানান গবেষকেরা যে, এই দুইটি ছবি দুইটি প্রাণীর। যার প্রথমটি বাইসন। আর পরেরটি বাইসনের মতন হলেও বাইসনের নয়।