স্কুলে যাওয়া হল না ঐশি-সাকিবের

bdorpon-nator

বাংলা দর্পণ : কথা ছিল নানাবাড়ি থেকে ফিরেই তৃতীয় শ্রেণীর নতুন বই আনতে স্কুলে যাবে তাবাসসুম সুলতানা ঐশি। আর শিশু নাজমুস সাকিব অপো করছিল স্কুল জীবনের প্রথম দিনটির জন্য। তাই দুই সন্তানকে নিয়ে বগুড়া থেকে দ্রুত বাড়ি ফিরছিলেন তাদের মা সুলতানা বেগম। অথচ তিনটি জীবন প্রদীপ একসাথে নিভে গেলে চালকের উদাসীনতায়।

ঐশি নাটোর সরকারী বালিক উচ্চ বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীর ভর্তি পরীায় উত্তীর্ণ হবার পর মা-ভাইসহ বেড়াতে গিয়েছিল নানা বাড়ি বগুড়ার মোকামতলায়। কিন্ত আর ফেরা হল না। স্ত্রী ও দুই সন্তানের একসাথে এভাবে চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাদের অপোয় থাকা স্বামী সাঈদুর রহমান লিখন। তার নিজের গাড়িতেই প্রাণ গেল প্রিয়জনদের।

রবিবার সকালে শ্বসুরবাড়ি বগুড়া থেকে ফেরার পথে নাটোরের সিংড়ায় উপজেলার চৌগ্রামে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের জোলারবাতা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লিখনের নিজের গাড়ি লিখন পরিবহনের একটি বাস খাদে পড়ে শিশুসহ ৪জন নিহত যাদের ৩ জনই সাইদুর রহমান লিখনের পরিবারের। লিখনের স্ত্রী সুলতানা বেগম (৩৫), ছেলে শাকিব (৭) ও মেয়ে ঐশি (৫) এবং বাস চালকের সহকারী নিহত হন ঘটনাস্থলেই। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৪ জন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সকাল নয়টার দিকে লিখন পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী একটি বাস বগুড়া থেকে নাটোরে যাচ্ছিল। জোলারবাতা এলাকায় আসার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুসহ চারজন নিহত হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। এদিকে মা ও ছেলে-মেয়ের মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে নাটোরের বঙ্গজ্বলে।