ঘুরে আসুন পুরাকীর্তি নগর মহাস্থানগড়!

visit-mahasthangarh

বাংলা দর্পণ : বাংলাদেশে আবিষ্কৃত হওয়া পুরাকীর্তি নগরগুলোর মধ্যে মহাস্থানগড় অন্যতম। মহাস্থান গ্রামে আছে প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধনের নগরী পুণ্ড্রনগরের অবশিষ্টাংশ। খ্রিষ্টপূর্ব ৩ সালে এখানে একটি পাথরখণ্ড আবিষ্কৃত হয়। যেটিতে প্রাকরিত ভাষায় ভ্রামি হস্তলিপির ছয়টি পংতি লেখা ছিল। এই সুরক্ষিত এলাকাটি ১৮শ শতাব্দী পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়। এখানে রয়েছে শাহ সুলতান বাল্কি মাহি সাওআরের মাজার যিনি মহাস্থানে এসেছিলেন অমুসলিমদের মধ্যে ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে। তিনি অনেক অমুসলিমকেই ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করতে সফল হয়েছিলেন।

দুর্গের অভ্যন্তরে খননকরা টিলা সমূহ হলঃ
১। বৈরাগীর ভিটাঃ ৪ যুগ ধরে এটি নির্মিত হয়েছিল। খননের পর কিছু মন্দিরের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়। ২টি মূর্তি খচিত কষ্টিপাথরের পিলার সংরক্ষণ করা হয়।

২। খোদারাপাথার ভিটাঃ অঞ্জলিতে পাথর খচিত মহান বুদ্ধ এবং তাঁর অনুসারীদের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ করা হয়।

৩। মানকালির দ্বীপঃ এখানে প্রাপ্ত প্রত্নতত্ত্বর মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির অলংকার ও থালা বাসন, তাম্র দিয়ে তৈরি গণেশের মূর্তি এবং পনেরো গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের অবশিষ্টাংশ।
দুর্গের অভ্যন্তরে খননকরা টিলা সমূহ হলঃ

৪। গোবিন্দ ভিটাঃ এটি জাদুঘরের উল্টোদিকে অবস্থিত। তৃতীয় থেকে পনেরশো শতাব্দীর মধ্যেকার দুইটি মন্দিরের অবশিষ্ট এখানে আবিষ্কার করা হয়।

৫। তোতারাম পণ্ডিতের ধাপঃ এটি পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত। এখানে ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি বৌদ্ধ বিহারের অবশিষ্টাংশ খুঁজে পাওয়া যায়।

visit-mahasthangarh-1

৬। গোকুল মেধঃ এই স্থানটি বেহুলার বাসর ঘর অথবা লক্ষিন্দরের মেধ নামেও পরিচিত। বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের ৩ কিলোমিটার দক্ষিনে গোকুল গ্রামে এটির অবস্থান। এখানে ১৭২ টি চারকোনা কক্ষসহ একটি মঞ্চ পাওয়া যায়।

৭। ইস্কান্দারের ধাপঃ এটি দুর্গ এলাকার ৩.৫ কিলোমিটার দক্ষিনে বাঘাপুর গ্রামে রংপুর-বগুড়া মহাসড়কে অবস্থিত। এখানে কার্তিকা নামে একটি কষ্টি পাথরের মূর্তি পাওয়া যায়।

৮। খুলনার ধাপঃ চাঁদ সাগরের স্ত্রী খুল্লানার নামে নামকরন করা এই জায়গাটি দুর্গের উত্তরপশ্চিম কোণে চেঙ্গিসপুর গ্রামে অবস্থিত।

৯। ভীমের জঙ্গলঃ বগুড়ার উত্তর পূর্ব থেকে আরম্ভ হয়ে উত্তরে দামুকধারের বিট নামক স্থান পর্যন্ত এই জায়গাটি বিস্তৃত। এই জায়গাটির সাথে সামরিক এলাকার মিল পাওয়া যায় কেননা এখান থেকেই থেকে দেশের পূর্বাংশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা হত।

১০। জগির ভবনঃ এই জায়গাটি ক্ষেতলাল সড়কের ৩ মাইল পশ্চিমে বাগতাহালিতে অবস্থিত। এখানকার পবিত্র স্থানগুলো দক্ষিন পূর্বে অবস্থিত।

১১। অররাঃ এটি মাসান দীঘির ওপরে অররা গ্রামে অবস্থিত।

১২। তেঘরঃ এটি চাদিনা হাটের উত্তরে অবস্থিত।

১৩। রোজাকপুরঃ গোকুল থেকে পশ্চিমে যাওয়ার পথে আপনাকে হরিপুর গ্রামের পশ্চিম দিয়ে যেতে হবে। রোজাকপুর গ্রাম চাদনিয়া হাটের কাছে বগুড়া ক্ষেতলাল সড়কে, পশ্চিম হরিপুরে এবং সমরাই বিলের পশ্চিমে অবস্থিত।

১৪। মাথুরাঃ এটি পূর্ব বুমানপাড়ায় অবস্থিত যা পূর্ব গড় পর্যন্ত বিস্তৃত। মাথুরা গ্রামটি উত্তরে অবস্থিত।

১৫। মহাস্থানগড় জাদুঘরঃ মহাস্থানগড়ের অভ্যন্তরে এটি একটি ছোট এবং সমৃদ্ধ জাদুঘর। এটির চারপাশটি অনেক সমৃদ্ধ। এখানে হিন্দুদেবতাদের মূর্তি, পোড়ামাটির অলংকার ও থালা বাসন এবং পাল আমলের কিছু তাম্র মূর্তি আছে। এখানকার বাগানটি বেশ আকর্ষণীয়। রবি ও সোমবার সকালে এই জাদুঘরটি বন্ধ থাকে এবং প্রতিদিন দুপুর ১২:৩০ থেকে দুপুর ২:৩০ পর্যন্ত মধ্যাহ্ন বিরতি। মূল প্রবেশপথটি দুর্গের কাছেই অবস্থিত।

১৬। পরশুরামের প্রাসাদ-এখানে ৩ টি আমলের প্রত্নতত্ত্ব রয়েছে।
১৬.১। ৮ম শতকের প্রাপ্তির মধ্যে আছে পালা আমলে ভিসনুপাটটার পাথর।
১৬.২। ১৫শ-১৬শ শতকের প্রাপ্তির মধ্যে আছে মুসলিম ঐতিহ্যের কিছু উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
১৬.৩। ১৮৩৫ থেকে ১৮৫৩ সালের মধ্যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যাবহার করা দুইটি মুদ্রা পাওয়া যায়।

%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a6%b0

কিভাবে যাবেন
প্রথমে আপনাকে ঢাকা থেকে বগুড়া পৌছাতে হবে। রাজধানী ঢাকা থেকে বগুড়ার দূরত্ব প্রায় ২১৪ কিলোমিটার। বগুড়া থেকে মহাস্থানগড়ের দূরত্ব ৮.৬ কিলোমিটার। বগুড়া পৌঁছে আপনি এখানে বাস অথবা সিএনজি অটো রিকশায় আসতে পারেন। বগুড়া থেকে মহাস্থানগড় যাবার দিক নির্দেশনা পেতে ক্লিক করুন

কিভাবে পৌঁছাবেন: বগুড়া জেলা
বগুড়া বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত একটি শহর। রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলায় এই শহরটি অবস্থিত। ঢাকা থেকে প্রায় ২২৯ কিলোমিটার দূরে বগুড়া অবস্থিত। আপনি সেখানে বাস এবং ট্রেনে পৌছাতে পারেন।

১। টি আর ট্রাভেলসঃ সকাল ৭টা থেকে শুরু করে রাত ১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ৩০ মিনিট পরপর এটি বগুড়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফোনঃ গাবতলি-০১১৯১-৪৯৪৮৬৫, মহাখালি-০১১৯১-৪৯৪৮৬৬
২। শ্যামলী পরিবহনঃ সকাল ৬টা থেকে শুরু করে রাত ১:০০ টা পর্যন্ত প্রতি ১ ঘণ্টা পরপর এটি বগুড়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফোনঃ আসাদ গেইট-০২-৯১২৩৪৭১, কলাবাগান-০১৭১১১৩০৮৬২, সায়েদাবাদ-০১৭১২৫৯৬৯৪০
৩। এস আর ট্রাভেলসঃ সকাল ৭:৩০ মিনিট থেকে শুরু করে রাত ১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ৩০ মিনিট পরপর এটি বগুড়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফোনঃ গাবতলি-০২-৮০১১২২৬, উত্তরা-০১৫৫২৩১৫৩১৮
৪। হানিফ এন্টারপ্রাইজঃ ঢাকা বাস স্ট্যান্ড, ফোনঃ ০৫১-৬০৯৪০, ৬০৮০৩, ০১৯১১-৫৬০৮৮২

visit-mahasthangarh

কোথায় থাকবেন
বগুড়ায় থাকার ব্যাবস্থা বেশ উন্নত। আপনি এখানে চার তারকা হোটেলও পেয়ে যাবেন। বগুড়ায় উন্নত মানের থাকার জায়গার মধ্যে আছেঃ

১। হোটেল নাজ গার্ডেন,
ঠিকানাঃ সিলিমপুর, বগুড়া-৫৮০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ ৮৮-০৫১-৬২৪৬৮, ৬৬৬৫৫, ৬৩২৭২, ৬৪১৯৭, ৭৮০৮৮

২। পর্যটন মোটেল
বনানী মোড়, বগুড়া, ফোনঃ০৫১-৬৬৭৫৩

৩। আকবরিয়া হোটেল
ওয়েব সাইটঃ http://urbita.com/bangladesh/bogra/akboria-hotel
ঠিকানাঃ কাজী নজরুল ইসলাম রোড, থানারোড, বগুড়া, ফোনঃ ০১৭১৬-১৭৯৯৮২

বগুড়া শহরের আরও কিছু হোটেলের নাম:
১। হোটেল আল আমিন, নবাববাড়ি রোড
২। মোটেল নর্থ ওয়ে, শেরপুর রোড
৩। হোটেল রয়াল প্যালেস, উপশহর
৪। হোটেল সান ভিউ,শেরপুর রোড
৫। হোটেল সেফওয়ে, শান্তাহার মোড়
৬। হোটেল রাজমনি, বগুড়া রাজা বাজার
১০। হোটেল হানি ডে, বড় মসজিদ লেইন
১১। হোটেল আজিজ, কবি নজরুল ইসলাম রোড

কি করবেন
এখানে দেখার মত অনেক কিছুই আছে। দুর্গের কাছে খনন করা ও খনন না করা অনেক টিলা রয়েছে।