ঘুরে আসুন পাহাড়ে ঘেরা রাঙামাটি

rangamati-hillবাংলা দর্পণ : আমাদের দেশে ভ্রমণকারীরা সাধারনত শীতের মৌসুমে বেড়াতেই বেশি পছন্দ করেন। অবশ্য এর পক্ষে যথেষ্ট যুক্তিও আছে। আপনি যদি শীতকালে বেড়াতে পছন্দ করেন,তাহলে নিশ্চয়ই এবারের শীতেও আপনার বেড়ানোর পরিকল্পনা আছে। বেড়াতে গেলে কোথায় যাবেন? সৈকত না পাহাড় ? নাকি সুন্দরবন ?

যদি পাহাড়কে বেছে নেন, তাহলে নিশ্চিন্তে বেছে নিতে পারেন রাঙামাটি। এই শহরটিতে রয়েছে হ্রদ,পাহাড়, ঝর্ণা, ভিন্ন ধরনের সংষ্কৃতি ও সবুজ প্রকৃতি।

দর্শনীয় স্থান সমূহ-

সুবলং ঝরনা: রাঙামাটির অন্যতম সুন্দর দর্শনীয় স্থান এটি। চমৎকার একটি জলপ্রপাত এই স্থানকে দিয়েছে ভিন্ন একটি চরিত্র। রাঙামাটি শহর থেকে ২০-২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মনোরম এই ঝরনাটি। এ ঝর্নার রূপ আপনাকে মোটেও হতাশ করবে না। ঝর্না দর্শন শেষে আপনি সামনে এগিয়ে গেলে পাবেন সুবলং বাজার। হ্রদের তীরে অবস্থিত স্থানীয় এই বাজারে রয়েছে একটি সেনা ক্যাম্প। বাজারটি একেবারে ছোট নয়। এখানকার খাবার বেশ সুস্বাদু। চাইলে সেখানে দুপুরের খাবারটি সেরে নিতে পারবেন।

চাকমা রাজবাড়ি: রাঙামাটি শহরেই অবস্থিত চাকমা রাজবাড়ি। বর্তমানে চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় ও তার মা রানী আরতি রায় এ রাজবাড়িতে থাকেন । চারদিকে হ্রদে ঘেরা এই রাজবাড়ি পুরনো হলেও দেখতে ও বেড়াতে বেশ ভালোই লাগবে। রাজবাড়ীর পাশেই উপজাতীয় নারীরা তাদের হাতে বোনা বস্ত্র নিয়ে বিকিকিনির জন্য বসে থাকে। এসব পন্য আপনার রুচির তৃষ্ণা মেটাবে ।

rangamati-hill11রাজবন বিহার: রাজবাড়ির পাশেই আন্তর্জাতিক খ্যাত সম্পন্ন এই বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত। এখানে অবস্থান করেছিলেন বৌদ্ধ আর্য পুরুষ শ্রাবক বুদ্ধু সর্বজন পূজ্য শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তে।প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনাথী ও পুণ্যানর্থীর ভিড়ে মুখরিত থাকে রাজবন বিহার। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান বৌদ্ধ ধর্মীয় উপাসনালয়। বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ মন্দির, বিশ্রামগার, হাসপাতাল ও বটবৃক্ষ সহ অনেক কিছুই এখানে দেখার মতো সুন্দর।

ঝুলন্ত ব্রীজ ও পর্যটন মোটেল: রাঙামাটি শহরের শেষ প্রান্তে কাপ্তাই হ্রদের তীর ঘেঁষে অবস্থিত সরকারী পর্যটন মোটেল। পর্যটকদের জন্য খুবই দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষনীয় স্থান এটি।পর্যটন মোটেলের ঝুলন্ত ব্রীজটি, এলাকাটিকে আরও বেশি সুন্দর ও দৃষ্টি-নন্দিত করে তুলেছে।যা সহজেই পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে। নির্মান শৈলির কারণে ঝুলন্ত ব্রীজটি আজ পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণে পরিনত হয়েছে।

পেদা টিং টিং: কাপ্তাই হ্রদের চারিদিকে কেবল পাহাড় আর হ্রদ, যেন প্রকৃতির মাঝে আপনি এক আগন্তুক মাত্র। বুনো প্রকৃতি ছাড়া আর কিছুই আশা করা যায় না সেখানে। কিন্তু আপনি অবাক হবেন যখন চলতি পথে কোনো একটি টিলার উপরে দেখবেন ‘পেদা টিং টিং’এর সাইনবোর্ড।’পেদা টিং টিং’এ চা, কফি আর চিকেন ফ্রাইও পাওয়া যায়। সত্যিই হতবাক করার মতো ব্যাপার। পেদা টিং টিং একটা চাকমা শব্দ, যার অর্থ হচ্ছে পেট টান টান। অর্থাৎ পেট ভরে খাওয়ার পর পেটের যে টান টান অবস্থা থাকে, সেটাকেই বলা হয় ‘পেদা টিং টিং’।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জাদুঘর: রাঙামাটি শহরের প্রধান রাস্তার পাশেই এই জাদুঘরটি স্থাপিত হয়েছে। আদিবাসীদের কৃষ্টি,সংস্কৃতি, জীবনধারার নানান নিদর্শন ও ব্যবহারী জিনিসপত্র সেখানে রাখা হয়েছে।

তবলছড়ি চাকমা বাজার: রাঙামাটি শহরে এটি হলো একটি প্রধান আদিবাসী বাজার। সপ্তাহে বুধ এবং শনিবার এ বাজার বসে। আদিবাসী কিশোর-কিশোরী, নারী এবং পুরুষরা এখানে আসে নানা ধরনের জিনিসপত্র নিয়ে। এখানে পাহাড়ি মানুষের সঙ্গে মেশার ও তাদের সঙ্গে কথা বলার চমৎকার সুযোগ রয়েছে।

কাসালং: জলপথে যেতে হয় কাসালং রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার থেকে প্রতিদিন সকাল আটটায় কাসালংয়ের উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছেড়ে যায়। লঞ্চে যেতে যেতে নদীর দুই পাশের দৃশ্যাবলীও আপনাকে পুলকিত করবে। কাসালংয়ে ছোট-বড় বেশ কটি ঝরনা রয়েছে।

আসামবস্তি সেতু: এটি রাঙামাটির সব চেয়ে দীর্ঘ সেতু। এটি আসামবস্তি এলাকায় অবস্থিত। রাঙামাটি থেকে কাপ্তাই যাওয়ার সময় এই সেতু পাড়ি দিতে হয়। প্রতিদিন বিকেলে এখানে প্রচুর পর্যটক ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। পাশাপাশি এখন ব্রাক্ষনটিলা সেতুটিতে প্রচুর সমাগম হচ্ছে।

rangamati-hill

কিভাবে যাবেন?

ঢাকা হতে রাঙামাটি পর্যন্ত সরাসরি বাস সার্ভিস চালু রয়েছে। ঢাকা থেকে বেশ কয়েকটি বাস প্রতিদিন ছেড়ে যায় রাঙামাটির উদ্দেশ্যে। শ্যামলী, সায়েদাবাদ, কলাবাগান হতে প্রতিদিনই এস.আলম, ইউনিক,শ্যামলী,ডলফিন ও বি,আর,টি,সি সার্ভিস বাসগুলো ছাড়ে। এগুলোর মাধ্যমে সরাসরি চলে আসতে পারেন রাঙামাটি (ভাড়া ৬৫০-৯৫০ টাকা) । অথবা ঢাকা বা অন্য জেলা থেকে বাসে, ট্রেনে কিংবা বিমানে করে যেতে পারেন চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম হতে বি,আর,টি,সি, পাহাড়িকা,দ্রুতযান সার্ভিস রয়েছে রাঙামাটি পর্যন্ত (ভাড়া ১০০-১৮০ টাকা ) সেগুলোর মাধ্যমেও পৌঁছাতে পারেন রাঙামাটি। তবে সরাসরি বাস সার্ভিসই ঝামেলা ও ঝুঁকিমুক্ত।

কোথায় থাকবেন?

থাকার জন্য রাঙামাটিতে অনেক গুলো হোটেল ও গেষ্ট-হাউজ রয়েছে। তাছাড়া আরো কিছু বোর্ডিং পাওয়া যায় থাকার জন্য। বোর্ডিংগুলোতে খরচ কিছুটা কম হলেও,তবে থাকার জন্য খুব একটা সুবিধার নয়।

হোটেল সুফিয়া ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল সাংহাই ইন্টার ন্যাশনাল, হোটেল প্রিন্স,হোটেল গ্রীন ক্যাসেল,হোটেল নাদিসা ইন্টারন্যাশনাল,হোটেল নিডস হিল ভিউ,পর্যটন হলিডে কমপেক্স,হোটেল ডিগনিটি ও পর্যটন মোটেলে একটু বেশি খরচ পড়বে।

কম খরচে থাকতে চাইলে হোটেল আলমোবা,হোটেল ড্রীম-ওয়ে,হোটেল ডি-মারিনা,হোটেল লেকসিটি,হোটেল সৈকত,হোটেল আনিকা,হোটেল শাপলা, হোটেল শুকতারা,হোটেল আল-হেলাল, হোটেল পাহাড়িকা ও হোটেল রাজু অন্যতম ইত্যাদি বেছে নিতে পারেন।

হোটেল ভাড়া: ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। নরমাল ও শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত দুইটাই উপভোগ করা যাবে।

খাবার-দাবার: হোটেল গুলোর মধ্যে সব কটির আশে-পাশেই খাওয়ার রেষ্টুরেন্ট আছে। বেশি চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। তবে স্পেশাল কিছু রেসিপি পাওয়া যায়।