বয়ন শিল্পে অবদানের জন্য পুরস্কার দিলো ড্যানিশ নভোজাইমস

award-pic

বাংলা দর্পণ: দেশের পোশাক শিল্প পরষ্পবিরোধী চাহিদার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। এ রকম প্রেক্ষাপটে পানি ও জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে কাপড় তৈরি ও প্রক্রিয়াকরণ করা জরুরি। আবার প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে মানসম্পন্ন পণ্য তৈরি করাও দরকার।

ঢাকায় মাটির তলদেশের পানিস্তর প্রতি বছর ২ থেকে তিন মিটার নিচে নামছে। অথচ ২০২১ সাল নাগাদ ৫০ বিলিয়ন ডলারের গার্মেন্ট শিল্প গড়তে বাংলাদেশ সংকল্পবদ্ধ। দেশের পরিবেশ ও গার্মেন্ট শিল্পের ভবিষ্যতের জন্য স্থায়িত্ব্ই হলো প্রধান সমাধান। ড্যানিশ কোম্পানি নভোজাইমস কম্বিপলিশ নামে একটি এনজাইম টেকনোলজি উন্মুক্ত করেছে। এটি পণ্যের মান ও উৎপাদকের মুনাফা নিশ্চিত করতে টেকসই অবদান রাখবে।

এনজাইম শিল্প প্রক্রিয়ায় কঠিন ও ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার কমিয়ে থাকে। রং করার সময় বস্ত্রের বায়ো মসৃণকরণ এবং পরিষ্কারে পানি, জ্বালানি ও সময় সাশ্রয়ে সবচেয়ে দ্রুততম, শোভন এবং টেকসই পদ্ধতি হলো কম্বোপলিশটিএম। এর ফলে কাপড় দীর্ঘ সময় ধরে সতেজ থাকে এবং রং থাকে উজ্জ্বল। অনেকগুলো টেক্সটাইল কোম্পানি তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যে নভোজাইমস প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে দিয়েছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত মিকায়েল হেমনিতি উইন্থার তার বাসভবনে গত ২৭ ও ২৮ নভেম্বর ‘নভোজাইমস কম্বোপলিস চ্যাম্পিয়নস অ্যাওয়ার্ড ২০১৬’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এ সময় বাংলাদেশে কম্বোপলিশটিএম প্রযুক্তি ব্যবহারকারী কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন মিকায়েল হেমনিতি উইন্থার এবং নভোজাইমসের হেড অব টেকনিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এশিয়া প্যাসিফিক, পূর্ব ইউরোপ, মধ্য প্রাচ্য এবং আফ্রিকা) ইথেল ফ্যানি লরসেন।

ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ একটি বড় স্বপ্নের দেশ। সরকারের ২০২১ সাল নাগাদ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যটি উচ্চাভিলাষী হলেও অর্জনযোগ্য। তৈরি পোশাক শিল্প এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইথেল ফ্যানি লরসেন বলেন, বস্ত্রশিল্প খাতে উদ্ভাবন আনতে পেরে কোম্পানি হিসেবে আমরা খুবই গর্বিত। নভোজাইমস তার রাজস্বের ১৪ শতাংশ ব্যয় করে গবেষনা ও উন্নয়ন কাজে। শুধু বর্তমান নয় ভবিষ্যতের সমস্যার সমাধান আনবে এমন পণ্য উদ্ভাবনে এ গবেষনা পরিচালিত হয়।

টেকসই ও পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির উপর মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ভিয়েলাটেক্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান ডেভিড হাসানান, ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল জব্বার।